
‘দানে ধন বাড়ে’, ‘দান করে কেউ দরিদ্র হয় না’।
দানে মনে শান্তি আসে।
দানের কারণে বালা-মুসিবত দূর হয়।
# মুসলমানদের মধ্যে কেউ যখন কোনো ভালো কাজের সূচনা করে, এরপর তা অন্যদের আমলে পরিণত হয়, এ আমলকারীরা সকলে মিলে যে সওয়াব পাবে এর সমপরিমাণ সওয়াব সূচনাকারীর জন্যেও লিখে দেয়া হবে, তবে তাদের সওয়াব বিন্দু পরিমাণও কমবে না। –সহীহ মুসলিম, হাদীস ১০১৭
# ভালো কাজে সহযোগিতা করার মধ্য দিয়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে নেকি অর্জন করা যায়। সেই কাজ যদি হয় মসজিদ-মাদ্রাসা নির্মাণের জন্য তাহলে তো কথাই নেই। কারণ, মসজিদ মাদ্রাসায় দান করা সদকায়ে জারিয়ার অংশ। কেউ যদি মাদ্রাসায় দান করেন, যতদিন ওই মাদ্রাসা চালু থাকবে, মাদ্রাসায় কোরআন হাদিসের পাঠ দান চালু থাকবে, ততদিন ওই দাতা ব্যক্তির আমলনামায়ও নেকি লেখা হতে থাকবে।
রাসুল (সা.) বলেন, ‘মানুষ যখন মৃত্যুবরণ করে তখন তার সব আমলের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। তবে তিনটি জিনিস বাকি থাকে। ১. সদকায়ে জারিয়া; ২. এমন ইলম ও জ্ঞান; যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হয় ৩. নেক সন্তান, যে তার পিতামাতার জন্য দোয়া করবে।’ (মুসলিম : ৪৩৫, ৪৩১০)
রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে মানুষকে ইলম শিক্ষা দিল, এ ইলম অনুযায়ী আমলকারীর সমপরিমাণ নেকি তার আমলনামায়ও যুক্ত হতে থাকবে। অথচ তাদের কারও সওয়াবে কোনো কমতি হবে না।’ (ইবনে মাজা : ২৪০)।
হজরত উসমান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সেই, যে নিজে কোরআন শিক্ষা করে ও অন্যকে শিক্ষা দেয়।’ (বুখারি : ৫০২৭)।
সুতরাং কেউ যদি দরিদ্র ছাত্রদের জন্য মাদ্রাসা ভবন নির্মাণ, কিতাব-পত্র দান ও এসব আনুষঙ্গিক বিষয়ে অর্থ খরচ করে তাহলে মৃত্যুর পর কবরে শুয়েও এসবের দ্বারা অর্জিত সওয়াব তার আমলনামায় যুক্ত হতে থাকবে।
# যখন তুমি সুস্থ-সবল, তোমার উপার্জিত সম্পদ তুমি তোমার নিজের কাছে রেখে দিতে চাচ্ছ, অভাবে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও তোমার রয়েছে, তুমি সচ্ছলতার স্বপ্নও দেখ-এমন পরিস্থিতিতে তুমি যে দান করবে (সেটাই তোমার জন্যে অধিক প্রতিদান বয়ে আনবে)। (দান-সদকার ক্ষেত্রে) তুমি এতটা বিলম্ব করো না যে, তোমার প্রাণ ওষ্ঠাগত হল আর তখন তুমি বলতে থাকলে-এটা অমুকের, এটা তমুকের। শোনো, এটা তো তখন অন্যদেরই হয়ে যায়। –সহীহ মুসলিম, হাদীস ১০৩২
